পুজোর মাঝেই স্বাস্থ্য ভবনের কড়া পদক্ষেপ, ছাঁটাই ২ টিপিএ!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আবহেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য ভবন। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো বিল তৈরি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও এতদিন কোনো টিপিএ (থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এবার আর কোনো ছাড় দেওয়া হলো না। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং নতুন চালু হওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’র দরপত্র (টেন্ডার) থেকে সরাসরি বাদ দেওয়া হলো ‘মেডি অ্যাসিস্ট’ ও ‘ভোলো হেলথ ইনসিওরেন্স’ নামের দুই টিপিএ সংস্থাকে।

স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থ ছাড় ও ভুয়ো বিল রোখার ক্ষেত্রে টিপিএ বা মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারতের পাশাপাশি ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’ চালুর পর টিপিএ বা ইমপ্লিমেনটেশন সাপোর্ট এজেন্সি নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মোট ৮টি সংস্থা অংশ নিয়েছিল। কিন্তু গুরুতর অনিয়ম ও সরকারি নিয়ম ভাঙার অভিযোগে এই দুই সংস্থাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে চলত এই জালিয়াতি? স্বাস্থ্য ভবন সূত্র মারফত জানা গেছে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজে’ খরচের কোনো নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা থাকে না, যেখানে অস্ত্রোপচারের প্যাকেজে খরচের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা থাকে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বেসরকারি নার্সিংহোম অস্ত্রোপচারের রোগীদেরও মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজে ভর্তি দেখিয়ে বিলের অঙ্ক বহু গুণ বাড়িয়ে নিত।

দৃষ্টান্ত হিসেবে, বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের রোগীকে মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্টের অন্তর্ভুক্ত করে ৪০ হাজার টাকার বিমাকে এক লাফে ৯০ হাজার টাকা করা হয়। এমন অন্তত ১৪টি জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এছাড়া অর্থোপেডিক সার্জনকে দিয়ে মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার দেখানো কিংবা যে চিকিৎসা হয়নি তার নামেও বিল বানানোর মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগের তির টিপিএ সংস্থাগুলির দিকেও। ভুয়ো বিল আটকানোর দায়িত্ব থাকলেও টিপিএ-র কিছু কর্মকর্তা অসৎ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে সব দেখেও চুপ ছিলেন। একাধিক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই অবশেষে পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন।

স্বাস্থ্য ভবনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোম’। সংগঠনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে জানান, ভুয়ো বিল ও দুর্নীতি রুখতে এই ধরণের কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *