‘মমতা শুধু একটি ওয়ার্ডেই লিড পাবেন’, গণনার আগে ভবানীপুর নিয়ে শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি
আগামী ৪ মে রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। তার আগে নিজের পুরনো জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া বিজেপি শিবির। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নিয়ে এবার বড়সড় দাবি করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের মাত্র একটি ওয়ার্ডেই লিড পেতে পারেন।
৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বনাম বাকি ৭টি ওয়ার্ড
শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিড পাবেন। সেখানে ব্যবধান হতে পারে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার ভোটের। তবে শুভেন্দুর দাবি, বাকি সাতটি ওয়ার্ডে বিজেপি যে ভোট পেয়েছে, সেই ব্যবধানে ভর করেই তিনি সামগ্রিকভাবে এই কেন্দ্রে জয়ী হবেন। অর্থাৎ, একটি ওয়ার্ডের বড় ব্যবধানকে বাকি ওয়ার্ডগুলির ছোট ছোট লিড দিয়ে চাপা দেওয়ার অঙ্ক কষছে গেরুয়া শিবির।
বুথভিত্তিক তথ্যের ওপর জোর
বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী কেবল মৌখিক দাবি করেই থেমে থাকেননি; তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বুথে ঠিক কত শতাংশ ভোট পড়েছে, তার বিস্তারিত খতিয়ান চেয়ে পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে কোন বুথে বিজেপি এগিয়ে থাকতে পারে এবং কোথায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চেয়েছেন তিনি। গণনার দিন এজেন্টদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
ভোটের পাটিগণিত
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা এই নেতার দাবি অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভায় এবার ১ লক্ষ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটের মধ্যে কার পাল্লা ভারী, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। শুভেন্দু নিশ্চিত যে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে যেভাবে তিনি মমতাকে পরাজিত করেছিলেন, ২০২৬-এ ভবানীপুরেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।
এখন দেখার বিষয়, ৪ মে ইভিএম খোলার পর শুভেন্দুর এই ‘ওয়ার্ড ভিত্তিক’ পাটিগণিত মেলে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দুর্গ অটুট রাখতে পারেন।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
শুভেন্দুর এই সুনির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক দাবির পেছনে কি সত্যিই কোনো গোপন বুথ-রিপোর্ট আছে, নাকি এটি গণনার আগে নিছকই কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল বলে মনে হয়?