বাংলার গণনায় ‘দিল্লি-নজরদারি’! শাহের সরাসরি তদারকিতে প্রস্তুত বিজেপি, গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশ

আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে গণনার প্রস্তুতিতে এবার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছেন। শনিবার দিনভর জেলাস্তরে এজেন্টদের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ

বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য দলের সমস্ত এজেন্টদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গণনার শেষ রাউন্ড পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত শংসাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ছেড়ে বেরোতে পারবেন না। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে:

  • সতর্কতা: কোনও প্ররোচনায় পা দিয়ে বা উত্তেজনার বশে কেন্দ্র ছেড়ে বের হওয়া চলবে না।
  • অভিযোগ দায়ের: কোনও বুথের ইভিএম বা গণনায় সামান্যতম সন্দেহ দেখা দিলেই তৎক্ষণাৎ রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
  • সমন্বয়: প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা কো-অর্ডিনেশন টিম তৈরি করা হয়েছে, যারা সরাসরি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।

কলকাতায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তদারকি করতে ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। গণনাকেন্দ্রগুলোর বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থান এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত আইপিএস অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, গণনার দিন প্রশাসনিক অসহযোগিতা হতে পারে, তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই উপস্থিতি কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এজেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

শনিবার রাজ্যের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি এজেন্টদের নিয়ে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে ইভিএম-এর প্রযুক্তিগত দিক, ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ গণনা এবং গণনার নিয়মাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মূলত পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় যাতে কোনও ভোট বাতিল না হয়, সেদিকেই সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

গণনাকেন্দ্রের ভেতরে তৃণমূল ও বিজেপি এজেন্টদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পুলিশি নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নজর ৪ মে-র সকালের দিকে, যখন শাহী-তদারকিতে থাকা এই নীল-নকশা কতটা কার্যকর হয় সেটাই দেখার।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

বিজেপির এই নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় নজরদারি এবং মন্ত্রীদের সরাসরি উপস্থিতি কি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে শাসক শিবিরের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে সফল হবে বলে আপনি মনে করেন?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *