ভোটারদের ‘খুনের হুমকি’! উত্তপ্ত ফলতায় গ্রেফতার জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ ৩ তৃণমূল কর্মী

ভোট পরবর্তী ফলতায় অশান্তির পারদ কিছুতেই নামছে না। ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো এবং খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শেষপর্যন্ত গ্রেফতার করা হলো ৩ তৃণমূল কর্মীকে। ধৃতরা প্রত্যেকেই স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাশিমনগর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে কী?
অভিযোগ, ফলতার হাশিমনগর গ্রামের বাসিন্দারা অন্য দলকে ভোট দিয়েছেন—এই সন্দেহে তাঁদের ওপর চড়াও হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান সুজাউদ্দিন শেখ এবং তাঁর সহযোগী ইসরাফিল চকদার। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের সাধারণ মানুষকে কেবল গালিগালাজ করাই নয়, তাঁদের প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা জাহাঙ্গির খানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে এলাকায় পরিচিত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বাড়ে।
মহিলাদের রণচণ্ডী রূপ ও বিক্ষোভ
তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের এই দাপাদাপির বিরুদ্ধে আজ রুখে দাঁড়ান গ্রামের মহিলারা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা রাস্তায় নেমে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশে খবর দেওয়া হলেও শুরুতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি
আন্দোলনকারীদের চাপে পড়ে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এফআইআর (FIR) দায়ের করে। এরপরই অভিযানে নেমে তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান সুজাউদ্দিন শেখ এবং ইসরাফিলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিশদ কিছু জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ভোট মিটে গেলেও ফলতায় যেভাবে বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হুমকির অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার দাবি, ফলতায় ভয়ের পরিবেশ কাটাতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল বাড়ানো দরকার। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিরোধীদের চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন।
আগামীকাল ৪ মে ভোট গণনা। তার আগে খোদ প্রার্থীর ঘনিষ্ঠদের গ্রেফতারি ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়তি মাত্রা যোগ করল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।