গণনায় কড়াকড়ি! চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল নির্বাচন কমিশন

আগামী ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার আগে দুই মেদিনীপুরে ভোটগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কোনও গণনাকেন্দ্রে কোনও স্থায়ী সরকারি কর্মী ছাড়া অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের প্রবেশাধিকার থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ।

গণনার কাজে ব্রাত্য অস্থায়ী কর্মীরা

শনিবার কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগণনা কেন্দ্রে ইভিএম আনা-নেওয়া বা সীল করার মতো কাজে এতদিন অনেক সময় অস্থায়ী বা ক্যাজুয়াল কর্মীদের ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে দুই মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, গণনার মূল কক্ষ তো বটেই, এমনকি আনুষঙ্গিক কোনও কাজেও এই অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগ করা যাবে না। সাধারণত ইভিএম বক্স সিল করার কাজে এঁদের ব্যবহার করা হত, কিন্তু এবার সেই কাজেও কেবল স্থায়ী কর্মীদেরই থাকতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রতিফলন

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটগণনা নিয়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালত যে কড়া বার্তা দিয়েছিল, তা মেনেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। র্যান্ডমাইজেশন বা লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাছাই করা স্থায়ী সরকারি কর্মীদের মাধ্যমেই গোটা গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যাতে কোনও স্তরেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে।

দুই মেদিনীপুরে বাড়তি নজরদারি

রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দুই জেলা নিয়ে প্রথম থেকেই বিশেষ সতর্ক ছিল কমিশন। ইভিএম বক্স সীল করা থেকে শুরু করে গণনার টেবিল পর্যন্ত সুরক্ষার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বাদ দেওয়ার ফলে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে বহিরাগত প্রভাব বা কারচুপির আশঙ্কা একধাক্কায় অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *