বিজেপি এগোলেই ‘পুনর্গণনা’র দাবি! মেগা কাউন্টিংয়ের আগে এজেন্টদের কড়া দাওয়াই মমতার

আগামীকাল ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ। তার আগে রবিবার দলীয় কাউন্টিং এজেন্ট এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক সারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটগণনার দিন এক ইঞ্চিও জমি যাতে হাতছাড়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে এজেন্টদের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলনেত্রীর এই রণকৌশল থেকে স্পষ্ট, গণনাকেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত শাসক শিবির।
বিজেপি এগোলেই পুনর্গণনার দাবি
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনার প্রতিটি স্তরে তীক্ষ্ণ নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, তিনি এজেন্টদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, গণনার সময় কোনও বুথে যদি বিজেপি ৫০০, ৭০০ বা হাজার ভোটে এগিয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুনর্গণনা বা রিকাউন্টিংয়ের দাবি তুলতে হবে। কোনওভাবেই হাল ছেড়ে দেওয়া চলবে না বা সন্দেহজনক কিছু দেখলে বিন্দুমাত্র চুপ থাকা যাবে না।
গণনাকেন্দ্রের কাছেই রাত জাগার নির্দেশ
শুধু গণনার টেবিল নয়, গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়েও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রার্থী, তাঁর ইলেকশন এজেন্ট এবং সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টদের রবিবার রাতেই গণনাকেন্দ্রের কাছাকাছি কোনও হোটেল ভাড়া করে থাকতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সোমবার সকালে যাতে বিনা বাধায় এবং একেবারে সঠিক সময়ে দলের প্রতিনিধিরা গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন। রাস্তায় জ্যাম বা অন্য কোনও কারণ দেখিয়ে দেরি করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
স্নায়ুর লড়াইয়ে যুযুধান দুই শিবির
একদিকে বিজেপি যখন স্ট্রং রুমের পাহারায় নিজেদের মহিলা কর্মীদের ময়দানে নামিয়েছে, তখন তৃণমূলও গণনার টেবিলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার এই ‘হোটেল ভাড়া’ এবং ‘পুনর্গণনা’র নির্দেশ আসলে দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এবং গণনাকেন্দ্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্নায়ুর লড়াইয়ে টিকে থাকার এক সুচিন্তিত কৌশল। এখন দেখার, সোমবার ইভিএম খোলার পর এই কড়া নজরদারির কৌশল তৃণমূলের ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।