“শিশু-মহিলাদের পিটিয়েছিলেন, দেখে নেব!” সাসপেন্ড ওসি ও পর্যবেক্ষকদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে কালীঘাটের সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাস এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাউকেই ছেড়ে কথা বলা হবে না।
সাসপেন্ড ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি গৌতম দাস নির্বাচন চলাকালীন শিশু এবং মহিলাদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালিয়েছিলেন। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, ওই পুলিশ আধিকারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ওই পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। নেত্রী এদিন বুঝিয়ে দেন, কেবল সাসপেনশনই শেষ নয়, বিষয়টি তিনি আরও গভীরে গিয়ে দেখবেন।
পুলিশ পর্যবেক্ষকদের হুঁশিয়ারি
এদিনের বৈঠকে মমতার নিশানায় ছিলেন নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা পুলিশ পর্যবেক্ষকেরাও। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে তিনি জানান, ৪ মে ফল প্রকাশের পর কোনও পর্যবেক্ষকই পার পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ভাববেন না ৪ মে-র পর উত্তরপ্রদেশ বা অন্য কোনও রাজ্যে পালিয়ে গিয়ে নিস্তার পাবেন। আপনাদের প্রত্যেককে আদালতে টেনে আনা হবে।” পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে অতি-সক্রিয়তা এবং পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ তৃণমূল বারবার তুলে আসছে, নেত্রীর এই হুঁশিয়ারি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার ঠিক আগের দিন প্রশাসনের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করতেই তৃণমূল নেত্রী এই রণকৌশল নিয়েছেন। বিশেষত পুলিশ আধিকারিকদের ভিনরাজ্যে গিয়েও রেহাই না দেওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর বড়সড় আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে শাসক দল।
এজেন্টদের মনোবল বৃদ্ধি
বৈঠকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে মমতা নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও আধিকারিক বা পর্যবেক্ষকের রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে গণনাকেন্দ্রে নিজেদের কাজ করতে। পুলিশি দাপট বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে তৃণমূলের এজেন্টরা যাতে কুঁকড়ে না যান, সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া মেজাজ প্রদর্শন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।