“সাহস থাকলে দিল্লির গডফাদারকে পাঠান”: ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ অভিষেকের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের (Repoll) নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই ‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্ত ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন— সাহস থাকলে দিল্লির কোনো ‘গডফাদার’ এসে ফলতায় লড়াই করে দেখান।

বিজেপির কটাক্ষ ও ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’

ফলতায় পুনর্নির্বাচনের খবর আসার পরই বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করে লেখেন, “ডায়মন্ড হারবার মডেল ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।” মূলত গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন ফলতায় ইভিএম কারচুপি ও সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তাকেই হাতিয়ার করেছে গেরুয়া শিবির।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

অমিত মালব্যের আক্রমণের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন:

“১০টা জীবন পার হয়ে গেলেও আপনাদের এই বাংলা-বিরোধী ‘গুজরাটি গ্যাং’ এবং তাদের অনুগত জ্ঞানেশ কুমাররা আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে একটা আঁচড়ও কাটতে পারবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আপনাদের যা শক্তি আছে, সব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। আমি গোটা ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি—ফলতায় আসুন। আপনাদের ক্ষমতা থাকলে দিল্লির কোনো ‘গডফাদার’কে এখানে লড়তে পাঠান।”

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

তৃণমূল সেনাপতির এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, আগামী ২১ মে-র পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক দল এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘গডফাদার’ ও ‘গুজরাটি গ্যাং’ মন্তব্য নিয়ে পালটা সরব হয়েছে বিজেপিও। তাদের দাবি, হারের ভয়েই অভিষেক এখন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আক্রমণ করছেন।

ফলাফলে প্রভাব

আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হলেও, ফলতা কেন্দ্রের জন্য ২১ মে নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং অভিষেকের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ—দুইয়ে মিলে ফলতা এখন আক্ষরিক অর্থেই মে মাসের সবথেকে বড় ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *