‘একুশের থেকেও বেশি আসন’! বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘আর্থিক জালিয়াতি’ বলে উড়িয়ে মেগা ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের

আগামীকাল ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা। তার আগে দিল্লির বুথফেরত সমীক্ষা (Exit Poll) নিয়ে যখন দেশজুড়ে শোরগোল, তখন দলীয় কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে রাখতে বড় দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রের খবর, কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলের ‘সেনাপতি’ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, এবার তৃণমূল ২০২১ সালের থেকেও বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।

বুথফেরত সমীক্ষা ও ‘ভুয়া’ জল্পনা

গতকালের বুথফেরত সমীক্ষাগুলোতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখার যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাকে এদিন পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, এই সমীক্ষাগুলো কেবল মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং বিজেপির সরকারের অস্তিত্ব নেই সেটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বিজেপি নিজেও জানে তারা সরকার গড়তে পারছে না।” তৃণমূলের দাবি, ২০২১ সালে যে ২১১-২১৩টি আসনের ম্যাজিক ফিগার তারা স্পর্শ করেছিল, এবার জনসমর্থন তার থেকেও বেশি।

মমতার মন্তব্যের প্রতিধ্বনি ও ‘আর্থিক জালিয়াতি’র অভিযোগ

এদিন বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই অভিষেক অভিযোগ করেন যে, এই ধরণের ভুয়ো সমীক্ষা দেখিয়ে আসলে এক বড়সড় ‘আর্থিক জালিয়াতি’ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই এই সাজানো পরিসংখ্যান পেশ করা হচ্ছে। অভিষেক বলেন, জনতা জনার্দনের রায় ইভিএম-এ বন্দি রয়েছে এবং তা সমীক্ষার রেজাল্ট কার্ডের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে।

এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশ

ফলাফলের ব্যবধান নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার পাশাপাশি অভিষেক এজেন্টদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণনাকেন্দ্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রতিটি ভোটের হিসেব মিলিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২১১টি আসনে জিতেছিল (পরবর্তী উপনির্বাচন সহ সংখ্যাটি বেড়েছিল), এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে বলেই দাবি তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধানের।

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘২১-এর ফল ছিল এক ঐতিহাসিক জয়। অভিষেকের এই নয়া ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়ে তৃণমূল কি তাদের আগের রেকর্ড ভাঙতে পারবে, নাকি বুথফেরত সমীক্ষাই ঠিক হবে—তার উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *