ভুটানে হিমবাহ হ্রদের ভয়াবহ বিপর্যয়, আধুনিক প্রযুক্তিতেই কি বাঁচল হাজারো প্রাণ?

বার্তা ডেস্কঃ

প্রবল জলস্রোতে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটান। প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল নিমেষে উপচে পড়ে ‘মো চু’ নদীতে মিশে লণ্ডভণ্ড করে দেয় গাসা ও পুনাখা অঞ্চল। একলহমায় ধ্বংস হয়ে যায় রাস্তাঘাট, সেতু, ঘরবাড়ি ও পশুপাল। তবে নেপাল ট্র্যাজেডির পর থেকেই সতর্ক থাকা ভুটান সরকার বিপজ্জনক হ্রদগুলিতে আধুনিক সারণ সরঞ্জাম ও সাইরেন ব্যবস্থা স্থাপন করেছিল। ফলে বিপদ টের পেতেই দ্রুত সাইরেন বাজিয়ে নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছে প্রচুর মানুষের প্রাণ।

তবে বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি। সিনতাপু হ্রদের জলে ভেসে আসা পাথর ও পলিতে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি হওয়ায় পুনরায় হড়পা বানের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামেও। ভুটানের সঙ্কেত পেয়ে সীমান্ত ঘেঁষা ডুয়ার্সের কুমারগ্রাম, বানারহাট ও ময়নাগুড়িতে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য প্লাবনের আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার থেকে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভূ-গবেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও নিখুঁত পরিকল্পনার সমন্বয়ে ভুটান সরকার জলস্তর কমিয়ে ও আগাম সতর্কতা জারি করে এক অভূতপূর্ব প্রাণহানি এড়াতে সফল হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *