বাবার সঙ্গে থাকতে নারাজ নাবালিকা, তবুও সন্তানের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না!

বার্তা ডেস্কঃ

বাবার সঙ্গে থাকতে নাবালিকা মেয়ের অনীহার কথা মাথায় রেখে তার অস্থায়ী হেফাজতের আবেদন খারিজ করেছিল নিম্ন আদালত। তবে সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব দিলেও বাবার সঙ্গে দেখা করার বা যোগাযোগ রাখার অধিকার এভাবে সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া যায় না বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এক পারিবারিক মামলার শুনানিতে এই রায় দিয়ে কালীপুজো ও ভাইফোঁটায় বাবাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিল আদালত।

মামলার বিবরণ ও আদালতের নির্দেশ:

  • ঘটনার সূত্রপাত: আবেদনকারীর প্রায় ৯ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে প্রায় ২০২০ সাল থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পুজোর ছুটিতে মেয়েকে নিজের কাছে রাখার আর্জি জানিয়ে আলিপুরের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবা। তবে নিম্ন আদালতে বিচারকের সঙ্গে কথা বলার সময় নাবালিকা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সে বাবার সঙ্গে থাকতে বা যোগাযোগ রাখতে চায় না। মেয়ের সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে নিম্ন আদালত অস্থায়ী হেফাজতের আবেদন খারিজ করে।
  • হাইকোর্টের নির্দেশ: নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন বাবা। বিচারপতি রিশাদ মেদোরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জানান, সন্তানের ইচ্ছাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে, তবে তার অর্থ এই নয় যে বাবাকে সন্তানের সঙ্গে দেখা করার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে।
  • সাক্ষাতের দিনক্ষণ: হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিশেষ এই তিন দিন— আগামী ২, ৪ ও ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত নাবালিকাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের দফতরে হাজির করাতে হবে। সেখানে বাবা এবং তাঁর বাবা-মা (দাদু-ঠাকুমা) নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। প্রয়োজনে নাবালিকার মা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
  • নিরাপত্তা ও পরিবেশ: সাক্ষাৎ চলাকালীন যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মেম্বার সেক্রেটারিকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পুরো বিষয়টি সম্পন্ন করতে দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও সেখানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সব মিলিয়ে, সন্তানের মনস্তত্ত্ব ও ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি একজন অভিভাবক হিসেবে বাবার সঙ্গে সন্তানের নাড়ির টান ও সাক্ষাতের অধিকার যে আইনিভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে না, হাইকোর্টের এই রায় তারই এক স্পষ্ট বার্তা দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *