নাগরিক বইমিছিলে হাঁটলেন ‘বুজুদা’, পথে ফিরল পথের দাবি!

বার্তা ডেস্কঃ

শারদোৎসবের আবহে নাগেরবাজারে বামেদের বইয়ের স্টলে হামলার মুখে অকুতোভয় শান্ত প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আগ্রাসী এক যুবকের হাত থেকে ধুলোয় আছড়ে ফেলা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ তুলে নিয়ে বলেছিলেন—”বইগুলো ফেলো না ভাই! এদিকে এসো। বইগুলো দেখো। এগুলো চিরায়ত।” সেই ভাইরাল ভিডিওর কেন্দ্রবিন্দু, নাগেরবাজারের ৭৪ বছর বয়সি সিপিআই(এম) কর্মী বিপুল দাশগুপ্ত ওরফে ‘বুজুদা’ এবার পা মেলালেন কলকাতার রাজপথের বইমিছিলে।

শনিবার নাগরিক সমাজের আহ্বানে আয়োজিত এই প্রতিবাদী বইমিছিলে সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তীর পাশেই হাঁটতে দেখা যায় বিপুলবাবুকে। হাতে ধরা প্রিয় বই, আর কণ্ঠে বই বাঁচানোর স্লোগান নিয়ে নাগেরবাজারের প্রবীণ এই কর্মী যোগ দেন কলেজ স্ট্রিটমুখী মিছিলে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

  • ভাইরাল প্রতিবাদ: পুজোর সময় নাগেরবাজারে বুকস্টলে ভাঙচুরের সময় উন্মত্ত যুবকের সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় বই না ফেলার যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, তা রাজ্যজুড়ে মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। হামলার পর মাটি থেকে ধুলোবালি ঝেড়ে ফের বই সাজিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
  • রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা: শারদোৎসব চলাকালীন রাজ্যজুড়ে বামেদের প্রায় তিন শতাধিক বইয়ের স্টলে ভাঙচুর, বই ফেলে দেওয়া ও অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বই ও সংস্কৃতির ওপর এমন হিংসাত্মক অসহিষ্ণুতা কখনও দেখেননি বলে স্পষ্ট জানান বিপুল দাশগুপ্ত।
  • রাজনৈতিক তরজা: বুকস্টলে হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। একদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কিংবা আরএসএস প্রচারক জিষ্ণু বসু ঘটনার নিন্দা জানান; অন্যদিকে তথাগত রায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের একাংশকে হামলার সমর্থনে সরব হতে দেখা যায়।

সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর ধারাবাহিক এই আঘাতের প্রতিবাদেই বিশিষ্টজনদের ডাকে আয়োজিত হয় এই বইমিছিল, যেখানে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে পা মেলালেন ‘বুজুদা’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *