শোভনের তোপের মুখে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার, ছবি পোস্ট করে কী বার্তা দিলেন ফিরহাদ!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা পুরসভা ছেড়ে কেন পালিয়ে গেলেন ফিরহাদ হাকিম? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই সরাসরি তোপ দেগেছিলেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। পূর্বসূরীর সেই তীব্র আক্রমণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফিরহাদ হাকিমের নিজস্ব বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দরে তাঁর বিরুদ্ধে সাঁটানো হলো ‘নিখোঁজ’ পোস্টার। তবে বিরোধীদের আক্রমণ ও পোস্টার রাজনীতিকে পরোয়া না করে তিনি যে এখনো নিজের দায়িত্বে অটল, তা বোঝাতে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হলেন ববি।

শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে অফিশিয়াল নথিপত্রে সই করার ছবি পোস্ট করে ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘পরিস্থিতি পাল্টে গেলেও কর্তব্যে অবিচল।’ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর অবস্থান নিয়ে ওঠা সমস্ত বিতর্ক ও কটাক্ষের জবাব দিতেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের এই ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। এর কিছুদিন আগেই অবশ্য চেতলায় তাঁর নিজের বাড়ির কাছেই বিতর্কিত ব্যানার ঝুলিয়ে তাঁকে ‘গদ্দার’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারতন্ত্রের অভিযোগে বিঁধেছিল বিরোধীরা।

পূর্বে এক সাক্ষাৎকারে ববি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুরসভা নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও রাজনীতি থেকে কোনোভাবেই সন্ন্যাস নিচ্ছেন না। সম্প্রতি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করার পর তিনি নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যুক্ত হয়েছেন। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, মেয়র থাকাকালীন সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে বেরোতে পারেননি ফিরহাদ এবং দায়িত্ব ছেড়ে কার্যত পালিয়ে গিয়েছেন।

গত দেড় দশক ধরে কলকাতা বন্দর বিধানসভা এলাকায় ফিরহাদ হাকিমের প্রভাব ছিল একচ্ছত্র। মন্ত্রী ও মেয়র—উভয় পদ সামলে তিনি রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও টানাপোড়েনের আবহে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানাবিধ জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই জটিল পরিস্থিতিতে নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের পাশে থেকে কর্তব্য পালন করে যাওয়ার এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *