স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৩০ লক্ষ ‘ভৌতিক’ উপভোক্তা, অপচয় ২৫ হাজার কোটি টাকা!
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চরম দুর্নীতি ও বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ অপচয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। সরকারি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই প্রকল্পের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ কার্ডধারী উপভোক্তার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়েও এই উপভোক্তাদের খোঁজ মেলেনি। অথচ এই ‘ভৌতিক’ বা অদৃশ্য উপভোক্তাদের নামেই এতদিন ধরে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছিল।
শুধু স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেই নয়, রেশন বণ্টন এবং রাজ্যের বিভিন্ন কৃষক প্রকল্পেও হাজার হাজার ভুয়ো উপভোক্তার হদিস মিলেছে। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি জানান, সব প্রকল্প মিলিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার অপচয় হয়েছে। জনগণের করের টাকার এই বিপুল অপচয় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মৃত, স্থানান্তরিত ও ভুয়ো মিলিয়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। অনুমান করা হচ্ছে, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে সেই বাদ পড়া ভোটারদের নামই এখনও যুক্ত রয়ে গিয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এই দুই তালিকার চূড়ান্ত মিল এখনও খতিয়ে দেখা হয়নি।
মুখ্যসচিব আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই ‘প্রশাসনিক জঞ্জাল’ বা দুর্নীতি রাতারাতি কোনো জাদুবলে দূর করা সম্ভব নয়। গোটা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে আপাতত সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে এই সমস্ত নিখোঁজ ও ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম অবিলম্বে চিহ্নিত করে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ বা ব্ল্যাকলিস্ট করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।