ভাঙড়ে শওকাত ঝড়ে কোণঠাসা নওশাদ, ফিকে কি ভাইজান ম্যাজিক!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরুর সাথে সাথেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ভাঙড়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। প্রাথমিক রাউন্ডের গণনার শেষে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, নিজের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভাঙড়ে পিছিয়ে পড়েছেন আইএসএফ (ISF) প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে বড়সড় লিড নিয়ে জয়ের পথে এগোচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা শওকাত মোল্লা।

২০২১ সালের নির্বাচনে ভাঙড় থেকে জয়ী হয়ে নওশাদ সিদ্দিকী বিধানসভায় আইএসএফ-এর একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যে চমক দিয়েছিলেন, পাঁচ বছর পর সেই চিত্র অনেকটা বদলে গেছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে ভাঙড় এলাকা বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবার ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকাত মোল্লাকে ভাঙড়ের দায়িত্ব দিয়ে যে রণকৌশল সাজিয়েছিল, প্রাথমিক ফলাফলে তার ইতিবাচক প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পরিবর্তিত মেরুকরণ ও সাংগঠনিক লড়াই

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড়ের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের বিশেষ মেরুকরণ এবং শওকাত মোল্লার ব্যক্তিগত সাংগঠনিক দক্ষতাই নওশাদ সিদ্দিকীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের নিবিড় জনসংযোগ এবং বুথ স্তরের সুসংগঠিত পরিকাঠামো আইএসএফ-এর ‘ভাইজান ম্যাজিক’-কে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রথম কয়েক রাউন্ডের শেষে নওশাদ পিছিয়ে পড়ায় আইএসএফ শিবিরের অন্দরে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে দলটির নেতৃত্বের দাবি, গ্রামীণ এলাকার বুথগুলির গণনা সম্পন্ন হলে নওশাদ পুনরায় প্রতিযোগিতায় ফিরে আসবেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভাঙড়ে যদি শেষ পর্যন্ত নওশাদ সিদ্দিকী পরাজিত হন, তবে তা রাজ্যের সংখ্যালঘু রাজনীতিতে আইএসএফ-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেবে। অন্যদিকে, শওকাত মোল্লার জয় এই এলাকায় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গণনা কেন্দ্র ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জয়ের আগাম উল্লাস দেখা গেলেও, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও কয়েক রাউন্ড গণনার অপেক্ষা করতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *