আসামে কি তবে ফের হিমন্ত রাজ! ভোট গণনার শুরুতেই উড়ছে গেরুয়া আবির
আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সকালে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে কার্যত ‘গেরুয়া ঝড়’ আছড়ে পড়েছে। প্রাথমিক গণনার প্রবণতা অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগোচ্ছে। ১২৬টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিশেষ করে সবার নজর কেড়েছে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র জালুকবাড়ি, যেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
জালুকবাড়িতে অপ্রতিরোধ্য হিমন্ত
নিজের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জালুকবাড়িতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জয়জয়কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পঞ্চমবারের মতো এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হিমন্তের কাছে এলাকাটি হাতের তালুর মতো চেনা। ২০১৫ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ২০১৬ এবং ২০২১—উভয় নির্বাচনেই এই কেন্দ্র তাকে বড় জয় উপহার দিয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। যদিও কংগ্রেসের তরুণ প্রার্থী বিদিশা নিয়োগ শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু গণনার যত রাউন্ড এগোচ্ছে, ব্যবধান ততই ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন হিমন্ত।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উন্নয়নের প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসামে বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত নির্বাচনী কৌশল এবং গত কয়েক বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সংমিশ্রণ ভোটারদের বড় অংশকে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের অনৈক্য এবং শক্ত নেতৃত্বের অভাব বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনের স্থিতিশীলতা
ভোটের এই ধারা বজায় থাকলে আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসবে বিজেপি জোট। এর ফলে রাজ্যে চলমান প্রশাসনিক প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর জন্য এই ফলাফল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা থাকলেও, গণনাকেন্দ্রগুলোর বাইরে বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস ও মিষ্টি বিতরণ কার্যত জয়ের আগাম বার্তাই দিচ্ছে।