বাংলায় ভোট গণনার ধীরগতি নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ
দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনে বাংলার ভোট গণনার গতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর দেখা গেছে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্য বা উত্তর-পূর্বের অসমের তুলনায় বাংলায় ফল প্রকাশের গতি অত্যন্ত ধীর। এই ধীরগতির পেছনে নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা কারচুপির পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলা যোজন যোজন পিছিয়ে
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ভোট গণনার প্রথম দুই ঘণ্টায় অসম ও কেরলে অভাবনীয় গতি দেখা গেছে। অসমের ১২৬টি আসনের মধ্যে ১০৯টির ট্রেন্ড সামনে এনেছে কমিশন, যেখানে বিজেপি বড় জয়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে কেরলের ১৪০টি আসনের মধ্যে ১৩৭টির ফলাফল স্পষ্ট হয়ে গেছে প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই। এমনকি তামিলনাড়ুতে, যেখানে বিজেপি প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে, সেখানেও ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১৭৮টির ট্রেন্ড প্রকাশিত হয়েছে। তবে এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলায়। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে দুই ঘণ্টা শেষে মাত্র ৭৮টি আসনের ট্রেন্ড প্রকাশ করতে পেরেছে কমিশন, যা মোট আসনের অর্ধেকেরও কম।
ধীরগতির নেপথ্যে কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলার ভোট গণনায় এই মন্থরগতির পেছনে কমিশনের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। দেখা যাচ্ছে, যে সব রাজ্যে শাসক দলের অনুকূলে গণনার ফল যাচ্ছে, সেখানে কমিশন দ্রুত ট্রেন্ড দেখাচ্ছে। কিন্তু বাংলায় ট্রেন্ড প্রকাশের ক্ষেত্রে কমিশন কেন পিছিয়ে, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ৪৫টি এবং তৃণমূল ৩৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অথচ সংবাদমাধ্যমের সূত্রে কংগ্রেসের এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেলেও কমিশনের তালিকায় তা ঠাঁই পায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার এই কৃত্রিম ধীরগতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।