মাসে মাত্র ১০০০ টাকা পেনশন! মোদিকে চিঠি লিখছেন ১ লক্ষ অসহায় প্রবীণ!
বার্তা ডেস্কঃ
ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ প্রবীণরা, দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান বাজারে মাত্র এক হাজার টাকা পেনশনে সংসার চালানো আসাম্ভব—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে এবার প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চিঠি লিখছেন দেশের প্রবীণ নাগরিকরা। ইপিএস-৯৫ প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রায় ৮১ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির নেতৃত্বে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অন্তত এক লক্ষ চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সংগঠনের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে:
১. ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করতে হবে।
২. পেনশনের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) যুক্ত করতে হবে।
৩. অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁর জীবনসঙ্গীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশ মেনে উচ্চহারে পেনশনপ্রার্থীদের বকেয়া সুবিধা প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন তারা। এর আগে যন্তর-মন্তরে ধরনা এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভেও সুরাহা না মেলায় এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটছেন প্রবীণরা। উল্লেখ্য, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্টেও বর্তমান পেনশনকে ‘অতিসামান্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সংবিধানের ৪১ নম্বর ধারার প্রেক্ষিতে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য পেনশন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামী ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন ইপিএফও আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের প্রায় আট লক্ষ পেনশনভোগীর মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানো শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সভাপতি তপন দত্ত জানান, ১৬ নভেম্বর জলপাইগুড়ি ও সল্টলেকের ইপিএফও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
আগামী ১৯ নভেম্বর গুজরাতের গিরে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের বৈঠক রয়েছে। সেখানেও কয়েক হাজার প্রবীণ নাগরিক বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন। তবে অতীতে বেঙ্গালুরুতে একই ধরনের আন্দোলনের জেরে শেষ মুহূর্তে বৈঠক দিল্লি স্থানান্তরিত হওয়ায়, এবারও সরকারি তরফ থেকে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্দোলনকারীরা।