ঝালমুড়ির ঝাঁঝে ধরাশায়ী ঘাসফুল! ১৭০ পেরিয়ে নবান্ন দখলের পথে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬ সালের ভোটের ফলাফল। প্রাথমিক গণনার ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ১৭০টি আসনে এগিয়ে থেকে নবান্ন দখলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই জয়ের আভাস স্পষ্ট হতেই কলকাতার মুরলীধর সেন লেনের পুরনো বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।

প্রতিশোধের ঝালমুড়ি ও প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎবাণী

নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তৃণমূলের কটাক্ষের জবাবে মোদী কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, ৪ মে জয়ের উৎসবে মিষ্টির সঙ্গে ঝালমুড়িও বিলি করা হবে। সেই কথাকে সামনে রেখেই আজ বিজেপি কর্মীরা অভিনব কায়দায় উদযাপন শুরু করেছেন। কার্যালয়ের সামনে থরে থরে সাজানো ঝালমুড়ির ঠোঙা। কর্মীদের একটাই স্লোগান, “ঝালমুড়ির ঝাঁঝে উড়ে গেল তৃণমূল”। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনেই (ঝাড়গ্রাম, বিনপুর, নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুর) বিজেপি প্রার্থীদের লিড প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি কূটনীতিকেই সফল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গেরুয়া আবিরে রঙিন বাংলা ও আগামীর প্রভাব

জয়ের খবর নিশ্চিত হতেই রাজ্যজুড়ে গেরুয়া আবির খেলায় মেতেছেন বিজেপি সমর্থকরা। খড়গপুর থেকে কলকাতা, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই অকাল দীপাবলির মেজাজ। মহিলা কর্মীদের নাচ এবং মিষ্টি বিলির ছবি তৃণমূলের এক দশকেরও বেশি সময়ের আধিপত্যে ইতি টানার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই জয় যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে তা হবে বাংলার ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। বিজেপির এই উত্থান রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক মেরুকরণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঝাড়গ্রামের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে তৃণমূলের ভরাডুবি শাসক দলের ভোটব্যাংকে বড়সড় ধসের প্রমাণ দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *