ডোমকলে বামেদের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত, বিধানসভায় শূন্যের গেরো কাটাতে মরিয়া সিপিআইএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিধানসভায় অবশেষে খাতা খুলতে চলেছে বামেরা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার প্রাথমিক লিড বাম শিবিরে নতুন করে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি তৃণমূল প্রার্থীর থেকে ৮ হাজার ৩৫৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

তৃণমূলে ভাঙন ও বামেদের রণকৌশল

ডোমকলে বামেদের এই অভাবনীয় উত্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে নির্বাচনের ঠিক আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। স্থানীয় নেতৃত্বের একটি বড় অংশ অনুগামীদের নিয়ে লাল পতাকার তলে আসায় সিপিআইএম-এর সাংগঠনিক শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমানের দাবি অনুযায়ী, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনই তাঁদের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এছাড়া, এলাকায় তৃণমূলের কথিত ‘দাপট’ মোকাবিলা করে সাধারণ ভোটারদের বুথমুখী করতে পারা বামেদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল

ডোমকলের এই ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতির নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত দুটি নির্বাচনে বিধানসভায় বামেদের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ফলে ডোমকলে জয়ী হতে পারলে তা হবে বামেদের জন্য ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের প্রার্থী আইপিএস হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল এই মেরুকরণে সাহায্য করেছে। দুপুর গড়িয়ে গণনার রাউন্ড যত বাড়ছে, ততই জয়ের আশায় ডোমকলের রাস্তায় আবির খেলায় মেতে উঠেছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। এই লিড শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করলে তা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *