সাউথ ব্লক ছাড়ছেন সেনাপ্রধানরা, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক বদল!
বার্তা ডেস্কঃ
সাউথ ব্লক থেকে বিদায়: নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হচ্ছে সেনার শীর্ষ কমান্ড
চলতি নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ সাউথ ব্লক থেকে নিজেদের কার্যালয় সরিয়ে নিতে চলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠসহ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেনাপ্রধান, ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ এবং সাতজন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) তাদের কার্যক্রম স্থানান্তর করবেন দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নবনির্মিত সর্বাধুনিক ‘শৌর্য ভবন’-এ। একই সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের কার্যালয়ও সাউথ ব্লক থেকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও সামরিক বিভাগগুলোকে এক সুসংহত পরিকাঠামোয় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কৌশলগত পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন
এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় সেনার অতি-সংবেদনশীল ‘ওয়ার রুম’ এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-এর কার্যালয়কে নতুন সুরক্ষিত পরিকাঠামোয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সাউথ ব্লকের ঐতিহ্যবাহী দপ্তরগুলো থেকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নতুন ভবনগুলোতে কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার ফলে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও উন্নত প্রযুক্তির ‘ওয়ার রুম’ তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সমন্বয়
বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের মূল দপ্তর সাময়িকভাবে ‘কর্তব্য ভবন-২’-এ রয়েছে। সেনাপ্রধানের নতুন ঠিকানা ‘শৌর্য ভবন’ হওয়ায় জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে তাঁকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থেকে যাতায়াত করতে হবে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্থায়ীভাবে ‘কর্তব্য ভবন-৬’ ও ‘৭’-এ স্থানান্তরিত হবে। তখন সেখানেই তিন বাহিনীর প্রধান, ডিএমএ এবং ডিআইএ-এর কর্মকর্তাদের স্থায়ী অফিস স্থাপিত হবে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এক ঝলকে
- নভেম্বরের শেষে সাউথ ব্লক ছাড়ছেন সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব।
- সেনাপ্রধানের নতুন অফিস হবে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের আধুনিক ‘শৌর্য ভবন’-এ।
- সেনার ‘ওয়ার রুম’ ও ডিজিএমও কার্যালয়সহ স্পর্শকাতর দপ্তরগুলো সুসংহত পরিকাঠামোয় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
- দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে তিন বাহিনীর প্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দপ্তরগুলো ‘কর্তব্য ভবন’-এর নির্দিষ্ট ব্লকে একত্রিত হবে।