ট্রাম্প কি সত্যিই হতে চান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী! বিশ্বজুড়ে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ 
ইজরায়েলকে দেওয়া ৪ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, রসিকতায় বললেন ‘প্রধানমন্ত্রী হতে পারি’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জনপ্রিয়তার নিম্নমুখী প্রবণতা এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জল্পনার মধ্যেই এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইজরায়েলে তাঁর ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং’ ৯৯ শতাংশ। রসিকতার ছলে তিনি বলেন, “আমেরিকার মানুষ যদি আমার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়েন, তবে আমি ইজরায়েল চলে যাব এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব।”
তবে কেবল রসিকতা নয়, এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইজরায়েল-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে এক বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ইজরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৩,০০০ কোটি টাকা) সরকারি অনুদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেন, “ইজরায়েল এখন অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত স্বাবলম্বী এবং সমৃদ্ধ। তাদের আর মার্কিন অনুদানের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তারা নিজেরাই অস্ত্র কিনতে সক্ষম।”
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইজরায়েলকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল। মার্কিন ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল শিবির এই ৪ বিলিয়ন ডলারের অনুদানকে সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই রাজনৈতিক চাপ কমাতেই ট্রাম্প তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
যদিও আর্থিক অনুদান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন, তবুও ট্রাম্প আশ্বস্ত করেছেন যে, বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইজরায়েলকে সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এই চমকপ্রদ মন্তব্য ও নীতিগত ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।