শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় তাঁরই আদর্শের জয়: দীর্ঘ ৭৫ বছর পর নবান্নে গেরুয়া আবির

বাংলার মাটির সন্তান ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালে যখন তিনি ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন হয়তো অনেকের কাছেই বাংলার মসনদে তাঁর আদর্শের দলের আসীন হওয়া ছিল এক সুদূরপরাহত কল্পনা। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ ২০২৬ সালে সেই স্বপ্নই বাস্তব রূপ পেল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটেতে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে তাঁরই উত্তরসূরি ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।

ইতিহাসের স্মৃতি ও ফিরে দেখা

১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনসংঘ পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র ২টি এবং রাজস্থান থেকে ১টি আসন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্যে এই রাজনৈতিক ধারাটি কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৫১-র জনসংঘই ১৯৮০ সালে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি হিসেবে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক মরুভূমি পেরিয়ে আজ তাঁর ‘পবিত্র ভূমি’ হিসেবে পরিচিত এই বাংলায় ক্ষমতায় আসা বিজেপির কাছে কেবল একটি নির্বাচনি জয় নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার সমান।

আদর্শের জয় ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন

রাজনৈতিক মহলের মতে, ১৯৫২ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বাংলার রাজনীতিতে অনেক বদল এসেছে। বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূল, বিভিন্ন শাসনের সাক্ষী থেকেছে এই রাজ্য। তবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ভিত্তি করে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, আজ তা পূর্ণতা পেল। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, ডঃ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক বিধান, এক নিশান’-এর স্বপ্ন এই জয়ের মধ্য দিয়ে এক নতুন মাত্রা পেল।

বাংলায় এক নতুন যুগের সূচনা

আজকের এই ফলাফলের পর দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে শুরু করে কলকাতার মুরলীধর সেন লেন—সর্বত্রই অকাল হোলি শুরু হয়ে গিয়েছে। সমর্থকদের দাবি, শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরিরা সরকার গড়ছেন, এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। এই জয় কেবল পাটিগণিতের জয় নয়, বরং ডঃ মুখোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী ভাবনার এক নীরব বিপ্লব।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *