সরকারি প্রকল্পে কি আর আধার কার্ড লাগবে না? বড় ঘোষণা ঘিরে শোরগোল!

বার্তা ডেস্কঃ

 

সরকারি প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক নয়, পরিচয় যাচাইয়ে নতুন নিয়ম আনছে কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধার কার্ডের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে উপভোক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার কার্ডের পরিবর্তে ভোটার কার্ডের ‘ইপিক’ (EPIC) নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্যকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রক আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন পিপল্‌স প্ল্যান ক্যাম্পেন ২০২৬-২৭’ শীর্ষক কর্মশালায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিং।

কেন এই পরিবর্তন?
আধার কার্ডের পরিবর্তে নতুন এই ব্যবস্থা চালুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, বর্তমানে আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজলভ্য হয়ে ওঠায় জালিয়াতির ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অতি অল্প সময়ে আধার কার্ড তৈরি করে ভুয়া উপভোক্তা সেজে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। এই জালিয়াতি রুখতেই আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির (বায়োমেট্রিক) তথ্যের পাশাপাশি ভোটার কার্ডের ইপিক নম্বরকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই দুই তথ্যের কঠোর যাচাইয়ের পরেই সরকারি বরাদ্দের টাকা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

কোন কোন প্রকল্পে প্রভাব পড়বে?
নতুন এই নিয়ম কোন কোন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে এবং ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি মন্ত্রক। তবে বর্তমানে ‘পিএম-কিষাণ’, ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাসন যোজনা’ এবং ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্পগুলিতে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া মৎস্য, পশুপালন ও ডেয়ারি মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রেও আধার বাধ্যতামূলক। এই নতুন নিয়মের ফলে দেশজুড়ে সরকারি অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে সরকারি সাহায্যের ক্ষেত্রে ভোটার কার্ডকে প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে ঘোষণা করায় নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে, যাঁদের এখনও ভোটার কার্ড নেই বা ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা পাওয়ার পথ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে পরবর্তীতে বিশদ নির্দেশিকা জারি করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *