আসামের জঙ্গল থেকে অবশেষে ঘরে ফিরছে ডুয়ার্স রানি!

বার্তা ডেস্কঃ

 

বক্সা থেকে আসামে পাড়ি দেওয়া বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’ উদ্ধার, ফিরিয়ে আনা হচ্ছে স্বস্থানে

নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘ কয়েক দিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে আসামের কোকরাঝাড় জেলা থেকে ধরা পড়ল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’ (টি-১৩৮)। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ কোকরাঝাড়ের ধোটমা এলাকার গিলাগুড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। বর্তমানে তাকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, বাঘিনীটিকে ধরতে বন দফতর বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে তিনটি হাতি ও আর্থ-মুভার ব্যবহার করে পুরো এলাকা জালে ঘিরে ফেলা হয়। সোমবার একবার তাকে ধরার চেষ্টা করা হলেও অন্ধকার এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ব্যর্থ হন বনকর্মীরা। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে দীর্ঘ তল্লাশির পর বাঘিনীটির সন্ধান মেলে এবং ট্রাঙ্কুলাইজার ব্যবহার করে তাকে কাবু করা হয়। পুরো অপারেশন চলাকালীন বনমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা তিন বছর বয়সী এই বাঘিনীকে গত ২ অক্টোবর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ছাড়া হয়েছিল। এটি ছিল রাজ্যের প্রথম বাঘ স্থানান্তর কর্মসূচি। তবে গত ২৪ অক্টোবর বাঘিনীটি বক্সার সীমানা পেরিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসামের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যায়। যাত্রাপথে সে বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে বেশ কিছু গৃহপালিত পশু শিকার করে বলে খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সোমবার কোকরাঝাড়ের ধোটমা এলাকায় বাঘিনীটির অবস্থান শনাক্ত করে বন দফতর এলাকাটি ঘিরে ফেলে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই স্থানান্তর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে বক্সায় বাঘের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় বনের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই টি-১৩৮ বাঘিনীটিকে আনা হয়।

বন দফতর জানিয়েছে, বাঘিনীর জন্য শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বক্সার মূল জঙ্গল এলাকা থেকে ২৪২টি পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এখন বাঘিনীটিকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে এনে পুনরায় তার নির্দিষ্ট আবাসে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওড়িশার সিমলিপাল থেকে আসা ‘জিনাত’ নামের এক বাঘিনী ঝাড়খণ্ড হয়ে বাঁকুড়ায় প্রবেশ করলে তাকেও একইভাবে ট্রাঙ্কুলাইজ করে খাঁচাবন্দি করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *