আইনজীবীদের ওপর হুমকি ও পুলিশের বাড়াবাড়ি, হাইকোর্টের কড়া বার্তা!

বার্তা ডেস্কঃ

 

আইনজীবীদের হুমকি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ: দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশের কয়েকজন উচ্চপদস্থ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের হুমকি প্রদান ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে সম্মত হয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে।

আইনজীবী করণ বীর সিংয়ের দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, দিল্লির পুলিশ আধিকারিকরা আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মামলায় ভারত সরকার, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, স্পেশাল পুলিশ কমিশনার (ভিজিল্যান্স) ছাড়াও এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ এবং সাব-ইন্সপেক্টর বিশাল যাদবকে বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ:
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠকে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও প্ররোচনামূলক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, আইনজীবীরা দলবদ্ধভাবে থানায় এলে আইনি ব্যবস্থা বা আটকের সম্মুখীন হতে পারেন। অন্যদিকে, সাব-ইন্সপেক্টর বিশাল যাদব এক ভিডিওতে দাবি করেছেন, কোনো আইনজীবী তাঁর গায়ে হাত তুললে তিনি একে-৪৭ ব্যবহার করতে পিছপা হবেন না।

আবেদনকারীর মতে, এই মন্তব্যগুলো কেবল ক্ষমতার অপব্যবহারই নয়, বরং আইনজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। এছাড়া, ১৯৬৬ সালের ‘পুলিশ ফোর্সেস (রেস্ট্রিকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়েও পিটিশনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

দাবি ও আইনি পদক্ষেপ:
অভিযুক্ত এসিপি বশিষ্ঠকে ইতিমধ্যে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে সাসপেন্ড করা হলেও, আবেদনকারীর দাবি, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। পিটিশনে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইলেকট্রনিক প্রমাণাদি সংরক্ষণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিতর্কিত ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও সময়বদ্ধ তদন্ত দাবি করে কঠোর ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন আইনজীবী করণ বীর সিং।

উল্লেখ্য, পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এসিপি বশিষ্ঠের অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের পরই আইনি অঙ্গনে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শুক্রবারের শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *