তান্ত্রিক সেজে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু নিয়ে মন্দিরে স্বামী, নেপথ্যে কোন ভয়াবহ রহস্য?
বার্তা ডেস্কঃ
স্ত্রীকে গলা কেটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: তন্ত্রসাধনার আড়ালে অন্ধবিশ্বাস নাকি মানসিক অবসাদ?
গঙ্গারামপুরে স্ত্রী সীমা সরকার ঘোষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের পর নিহতের কাটা মুণ্ডু হাতে নিয়ে অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষকে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এরপর সে সোজা গিয়ে আশ্রয় নেয় স্থানীয় এক মন্দিরে। খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিন্টুকে গ্রেফতার করে এবং খুনে ব্যবহৃত দা-টি উদ্ধার করে।
পারিবারিক বিবাদ ও আচরণের পরিবর্তন
দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে রিন্টু ও সীমার দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। একসময় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় কন্ডাক্টরের কাজ করা রিন্টু চাকরি ছাড়ার পর থেকেই অস্থির হয়ে ওঠেন। নিহতের পরিবারের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই রিন্টুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নিরামিষভোজী হওয়া এবং ধর্মীয় আচার-আচরণে আচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি তার মধ্যে তান্ত্রিকসুলভ অদ্ভুত সব কার্যকলাপ বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত এই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তের মূল লক্ষ্য
ঘটনার নেপথ্যে তান্ত্রিক কোনো অন্ধবিশ্বাস কাজ করেছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রিন্টুর মানসিক অবস্থা এবং তার সাম্প্রতিক কার্যকলাপের সাথে এই খুনের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অবসাদ ও অন্ধবিশ্বাসের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।
এক ঝলকে
- গঙ্গারামপুরে স্ত্রীকে গলা কেটে খুনের দায়ে স্বামী রিন্টু ঘোষ গ্রেফতার।
- খুনের পর কাটা মুণ্ডু হাতে রাস্তায় ঘোরার অভিযোগ, অভিযুক্তের দাবি সে ধার্মিক ও তান্ত্রিক কাজে লিপ্ত ছিল।
- চাকরি ছাড়ার পর থেকেই অভিযুক্তের অস্বাভাবিক আচরণ ও মানসিক পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
- ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।