ইন্দ্রনীলকে সটান কী বললেন স্ত্রী মধুছন্দা!
বার্তা ডেস্কঃ
তদন্তের মুখে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর পরিবার: যুক্ত হতে পারে কঠোর MPO আইন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: একটি আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জাল গুটিয়ে আনছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এই মামলায় তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ও কন্যা আভেরি সেনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, লালবাজারে জেরার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ সালে গঠিত ‘মাস আর্ট’ (MassArt) নামের সংস্থার মাধ্যমে এই আর্থিক দুর্নীতির ছক কষা হয়েছিল। সংস্থাটি ইউনেস্কোর লোগো ও নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করলেও, ইউনেস্কো ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে মধুছন্দা সেন বিস্তারিত অবগত ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি। জেরার মুখে মধুছন্দা ইন্দ্রনীল সেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এইভাবে টাকা তুলতে তোমায় অনেকবার বারণ করেছিলাম, শোনোনি!” এই মন্তব্যের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়।
অন্যদিকে, দুর্নীতির অর্থে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে আভেরি সেনকেও তলব করেছিল লালবাজার। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। পুলিশের অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ সোসাইটির ৬৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ২২.৪৭ লক্ষ টাকা আভেরির মালিকানাধীন সংস্থা ‘আইস্কেপ’ ও ‘মায়রা’-র অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই বিপুল অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি গান গেয়ে এই অর্থ উপার্জন করেছেন বলে দাবি করলেও, তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুলিশ। দেশের প্রথম মামলা হিসেবে এই ঘটনায় ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার’ (MPO)-এর সংশোধিত ২ ও ৯ নম্বর ধারা যুক্ত করার জন্য ব্যাংকশাল আদালতে আবেদন জানানো হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া দুর্নীতি দমন আইনেও আলাদা করে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত এই মামলায় ইন্দ্রনীলের স্ত্রী ও সংস্থার কর্মীসহ মোট ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা।