উৎসবের মরসুমে ফের চড়া চিনির দাম, সাধারণের পকেটে বড় টান!
বার্তা ডেস্কঃ
চিনির দামের ঊর্ধ্বগতি: কারণ ও প্রতিকারের চ্যালেঞ্জ
গত এক বছরের ব্যবধানে দেশে চিনির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বার্ষিক তুলনামূলক চিত্র বলছে, খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়েই চিনির দাম কেজিতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতে দামের এই উল্লম্ফন সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় প্রতি কেজি চিনি ৬৫ টাকা, দিল্লিতে ৬৪ টাকা এবং মুম্বাইয়ে ৬১ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সরকারের পদক্ষেপ
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫-২৬ মরসুমে চিনির উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। পাশাপাশি উৎসবের মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারির মতো নেতিবাচক প্রভাবও বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার মজুত সীমা নির্ধারণ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং বিদেশ থেকে আমদানির ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া সুগার মিলগুলোতে দ্রুত আখ মাড়াইয়ের নির্দেশ দিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির প্রত্যাশায় আশার আলো
স্বস্তির খবর হলো, চলতি ২০২৬-২৭ চিনি মরসুমের প্রথম মাসেই দেশে ৮.৪৫ লক্ষ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। অক্টোবর মাস থেকে দেশের ১৫২টি সুগার মিল পুরোদমে মাড়াই কাজ শুরু করায় বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়ছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কোঅপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ লিমিটেড (NFCSF)-এর তথ্য অনুযায়ী, মিলগুলোর বর্তমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে উৎসবের মৌসুমে চিনির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে এবং দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- গত এক বছরে প্রতি কেজি চিনির দাম ১২ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
- কলকাতায় চিনির খুচরা দাম সর্বোচ্চ ৬৫ টাকায় পৌঁছেছে।
- উৎপাদন ঘাটতি, মজুতদারি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।
- চলতি মরসুমের শুরুতেই ৮.৪৫ লক্ষ টন চিনি উৎপাদন করে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।