অভিষেকের আপ্তসহায়ককে জেরা, কোটি টাকা উদ্ধার হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বার্তা ডেস্কঃ

 

ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয় থেকে কোটি টাকা উদ্ধার, শুরু রাজনৈতিক তরজা

নিজস্ব প্রতিবেদন, ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের কার্যালয় থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত সুমিত রায়কে জেরা করে এই অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সুমিত রায়কে জালিয়াতি ও অর্থ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতের জবানবন্দি থেকেই এই কার্যালয়ে টাকা মজুত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের সঙ্গে সুমিত রায়ের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও এখন স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, বজবজের এক বেসরকারি হাসপাতালের নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল ও স্থানীয় তৃণমূল গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। দলের মুখপাত্র মমতা তৃণমূলের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। তাদের অভিযোগ, গত ২১ মে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টে, বিজেপি ও পুলিশের একাংশের যোগসাজশে সাজানো মামলায় ফাঁসানোর জন্য অফিসে টাকা ‘প্ল্যান্ট’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। তৃণমূল নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, যেসব পুলিশ আধিকারিক এই চক্রান্তে জড়িত, আইনি পথে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে না বিরোধী পক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, ধৃত ব্যক্তি জেরায় সত্য স্বীকার করেছেন। সেই সূত্র ধরেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। একদিকে পুলিশি তদন্ত, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই টানাপোড়েন বজায় থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *