১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান, আজ কালীঘাটে মমতার জরুরি সাংবাদিক বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকেই তিনি তাঁর পরাজয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটের ফল ও ভবানীপুরের লড়াই

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও জয়ের মুখ দেখতে পাননি। বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এই পরাজয় তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে মমতার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

মারধর ও আসন চুরির অভিযোগ

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ লগ্নে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সেখানে তাঁকে শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে। তৃণমূল এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি কেন্দ্রে পৌঁছালে তাঁকে ‘লাথি ও মারধর’ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি বিজেপিকে ‘দানবিক পার্টি’ বলে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন যে, বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন ‘চুরি’ করেছে।

রাহুল গান্ধীর সমর্থন ও রাজনৈতিক প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন যে, কমিশনের মদতেই বিজেপি আসন ছিনতাই করেছে। এই পরাজয় এবং পরবর্তী অভিযোগগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজকের সাংবাদিক বৈঠক থেকেই পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *