জঙ্গলমহলে এবার ‘পদ্ম-ঝড়’, ঝাড়গ্রামের ৪ আসনেই ধূলিসাৎ ঘাসফুল

ঝাড়গ্রাম জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন ঘটিয়ে চারটি বিধানসভা আসনেই জয়জয়কার হল বিজেপির। সোমবার ভোট গণনার শুরু থেকেই জঙ্গলমহলের এই জেলায় একাধিপত্য বজায় রাখে পদ্ম শিবির। নয়াগ্রাম, বিনপুর, ঝাড়গ্রাম ও গোপীবল্লভপুর—প্রতিটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীদের পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। দুপুরের পর থেকেই পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গণনা কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেন তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা, যার ফলে কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে শাসক শিবিরের কার্যালয়গুলো।

রেকর্ড ব্যবধানে জয় ও হেভিওয়েটদের পতন

ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির লক্ষীকান্ত সাউ ৩৮,১৪৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন তৃণমূলের মঙ্গল সোরেনকে। অন্যদিকে, বিনপুর আসনে বড় ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল; সেখানে প্রাক্তন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদাকে ২২,৯৭৭ ভোটে পরাজিত করেছেন বিজেপির প্রণত টুডু। নয়াগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৬,৪২৪ ভোটে জয়ী হন অমিয় কিস্কু। গোপীবল্লভপুর আসনেও বড় জয় পেয়েছেন রাজেশ মাহাতো, তিনি অজিত মাহাতোকে ২৬,৬৭৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

তৃণমূলের অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল শুরু হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে গণনার কাজ শেষ হওয়ার আগেই স্ট্রং রুম ত্যাগ করেন বিরবাহা হাঁসদা ও দুলাল মুর্মুরা। জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা প্রার্থী দুলাল মুর্মু এই ফলের পিছনে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুললেও, বিজেপি একে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায় বলে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে ফাটল এবং স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াই জঙ্গলমহলে তৃণমূলের এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ। এই ফলের ফলে আগামী দিনে ওই এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই শাসক দলকে তাদের রণকৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *