গেস্ট হাউসে মধুচক্রের রেশ, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার জেরে রণক্ষেত্র দেগঙ্গা!
বার্তা ডেস্কঃ
গেস্ট হাউসের আড়ালে মধুচক্রের অভিযোগ, দেগঙ্গায় ব্যাপক উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, দেগঙ্গা: উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার টাকি রোড সংলগ্ন একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গেস্ট হাউসের আড়ালে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দেগঙ্গা থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিয়ানি বিল লাগোয়া জনবহুল এলাকায় অবস্থিত ওই গেস্ট হাউসটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ বা দেহব্যবসা চালানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, গত ১৫ দিন আগে পুলিশ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই গেস্ট হাউস থেকে দুই যুগলসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় প্রশাসন গেস্ট হাউসটি বন্ধ করে দিলেও সংলগ্ন কাফেটি খোলা থাকায় পিছনের দরজা দিয়ে ফের মধুচক্র শুরু হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার গ্রামবাসীরা গেস্ট হাউসের গেটে পোস্টার সাঁটান। বুধবার বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখালে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বচসা ও হাতাহাতি বেঁধে যায়।
গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করে, মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তরুণকান্তি ঘোষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “মধুচক্র চালানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমাদের ওপর ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর একই ইস্যুতে ওই গেস্ট হাউসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তলব করতে হয়েছিল। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও এলাকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।