ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব, নেপথ্যে কি বড় কোনো ষড়যন্ত্র?
বার্তা ডেস্কঃ
ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ঢাকা মহানগরীর মহাখালীতে অবস্থিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ডিবিসি নিউজ’-এর কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি অবজারভার’-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সময় চ্যানেলটির ক্রাইম রিপোর্টার রাজীব ঘোষকেও ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ডিবিসি কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গাড়িতে করে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে চ্যানেলটির কার্যালয়ে বেশ কয়েকবার ডিবির তৎপরতা ও কর্মকর্তাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র আখতার হোসেন এ বিষয়ে জানান, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেটি এড়াতে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।” তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠিক কী এবং কোথায় হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সাথে আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।
এদিকে, ডিবিসি নিউজের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আওয়ামী পন্থী সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যম দখলের চেষ্টার অংশ হিসেবেই ডিবিসি দখলের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিবিসি নিউজের একাধিক কর্মী দাবি করেছেন, অফিসের ভেতরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তাদের চোখে পড়েনি। ডিবি পুলিশ এসে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে ডেকে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডিবিসির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক গণমাধ্যমকে জানান, তারা ঘটনাটি দেরিতে জানতে পেরেছেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার কোনো মামলার জেরে এই আটক হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ডিবিসি টেলিভিশন চ্যানেলটি তার নেতৃত্বেই যাত্রা শুরু করেছিল, যদিও সরকার পতনের পর প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডিবিসি নিউজের সম্পাদক মাশুক এলাহী চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেননি। বর্তমানে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষ ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।