তৃণমূলের গোপন টাকার খনি! বড় মন্তব্যে তোলপাড় মুখ্যমন্ত্রী
বার্তা ডেস্কঃ
মগরাহাটে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধার, সরব বিরোধী দলনেতা
নিজস্ব প্রতিবেদন: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদের দলীয় কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কাছে এই ধরনের টাকা তোলা ছিল রোজকার বিষয়। তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এরা অঢেল টাকা তুলেছে। এই টাকা কোথায় রাখা হয়েছিল, তার কোনো হিসাব নেই।” নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, এই অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত।
রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। তাঁর দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে রাজ্যের রাজস্ব আদায় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন কোনো কর না চাপানো সত্ত্বেও এই অতিরিক্ত অর্থের উৎস নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির টাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
এদিকে, সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি পরিকল্পিত হলেও তৃণমূল নেতারা তা সরাতে ভুলে গিয়েছেন বলে শুভেন্দু কটাক্ষ করেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ দাবি করেছেন, সুমিত রায়কে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পুলিশ তাঁকে ওই পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়েছিল। এ বিষয়ে বিরোধী দলনেতা জানান, যা অভিযোগ তা আদালতে জানাতে হবে।
অন্যদিকে, বুধবার নবান্নে জেএসডব্লিউ (JSW) গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্যে বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে মেদিনীপুরে পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিটের ভূমিপুজো হবে। এছাড়া জিন্দল গোষ্ঠীর সহায়তায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন পুরনো মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস এবং এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে। তদন্তের পরবর্তী দিকেই এখন নজর সবার।