বাজির বাক্সে কিউআর কোড অকেজো! আসল বাজি চিনবেন কীভাবে?
বার্তা ডেস্কঃ
সবুজ বাজি শনাক্তকরণে নতুন কিউআর কোড ব্যবস্থা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিবেশমহলে
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন দীপাবলি ও কালীপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বাজি বাজারগুলোতে এবার নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে পুলিশ। এবছর প্রতিটি বাজির বাক্সে কিউআর কোড না থাকলেও, প্রতিটি বাজি বাজারের প্রবেশপথে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ কিউআর কোড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কোড স্ক্যান করলেই ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (নিরি) অনুমোদিত ১৭০০টি সবুজ বাজি প্রস্তুতকারক কো ম্পা নির তালিকা দেখতে পাচ্ছেন ক্রেতারা।
শহিদ মিনার, টালা পার্ক, বেহালা ও কালিকাপুরসহ শহরের বিভিন্ন বাজি বাজারে ইতিমধ্যেই কেনাকাটা শুরু হয়েছে। শহিদ মিনার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের লাগানো পোস্টারে বাজি পোড়ানোর নিয়মকানুনের পাশাপাশি রয়েছে ওই বিশেষ কিউআর কোড। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই পদ্ধতির ফলে বৈধ কো ম্পা নি যাচাই করা সহজ হয়েছে এবং কো ম্পা নি অনুযায়ী বাজির দামের তালিকাও তাঁদের কাছে রয়েছে।
তবে প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। পরিবেশকর্মী নব দত্তর মতে, বাজিকে শংসাপত্র দেওয়া হয় তার নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনের (কম্পোজিশন) ভিত্তিতে, কোনো প্রস্তুতকারক কো ম্পা নিকে ঢালাওভাবে সেই ছাড়পত্র দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। তিনি আরও বলেন, “যদি সব কো ম্পা নি নিয়ম মেনে চলত, তবে বাজি পরীক্ষার সময় কয়েকটি বাজি কেন পুনরায় পরীক্ষার জন্য নাগপুরে পাঠাতে হলো? এ নিয়ে তো আদালতে মামলাও চলছে।”
পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, ক্রেতারা বাজি বাজার থেকে কেনা মানেই সেটিকে নিরাপদ মনে করছেন। অথচ এই কিউআর কোড ব্যবস্থার আড়ালে অনিয়মের সুযোগ থেকে যেতে পারে। এছাড়া কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় পাড়ায় পাড়ায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজির দোকান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের দাবি, বাজির বৈধতা যাচাই এবং দোকানগুলোর ওপর নজরদারি আরও কঠোরভাবে হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, পুলিশের টাঙানো কিউআর কোডের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের ঠিকানায় থাকা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বাজি বাজারগুলোতে প্রশাসনিক তদারকির মধ্য দিয়েই উৎসবের মরসুমের কেনাকাটা চলছে।