জামুড়িয়ার কয়লাখনিতে ধুন্ধুমার, শ্রমিক সংগঠনের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র এলাকা!
বার্তা ডেস্কঃ
জামুড়িয়ায় ইসিএলের খনিতে দুই শ্রমিক সংগঠনের সংঘর্ষ, উত্তপ্ত পরিস্থিতি
জামুড়িয়া: পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় ইসিএলের কুনুস্তরিয়া কোলিয়ারিতে শ্রমিক সংগঠনের সভা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। বৃহস্পতিবার ‘ভারতীয় কয়লা মজদুর মঞ্চ’ এবং ‘ভারতীয় মজদুর সংঘ’ (বিএমএস)-এর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে, যখন ‘ভারতীয় কয়লা মজদুর মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন কুনুস্তরিয়া কোলিয়ারিতে কর্মিসভার আয়োজন করে। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ছবি ব্যবহার করা হয়। সভা চলাকালীন বিএমএসের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ তোলেন যে, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য নেতাদের ছবি ব্যবহার করে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাদানুবাদ শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষের রূপ নেয়।
বিএমএস নেতাদের দাবি, ‘ভারতীয় কয়লা মজদুর মঞ্চ’ নামে ওই সংগঠনটি প্রায় একই রকম নাম ব্যবহার করে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রাট সৃষ্টি করছে এবং জোর করে শ্রমিকদের সভায় বসিয়ে রাখছে। বিএমএসের জেলা সম্পাদক বিজয় কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরএসএস বা বিএমএসের সঙ্গে ‘ভারতীয় কয়লা মজদুর মঞ্চ’-এর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই ধরনের ‘ভুয়ো’ সংগঠনের ওপর তারা নজর রাখছেন।
অন্যদিকে, ‘ভারতীয় কয়লা মজদুর মঞ্চ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি শিবদাস বাউরি দাবি করেছেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত ‘ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের’ একটি শাখা। তিনি অভিযোগ করেন, বিএমএস কর্মীরা তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর ওই সংগঠনের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি তাপস রায় স্পষ্ট করেছেন, কয়লাখনিতে বিজেপির কোনো শ্রমিক সংগঠন তৈরি হয়নি এবং সেখানে বিএমএস-ই সক্রিয়। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ওই সংগঠন যে সভা করেছে, তার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জামুড়িয়া থানাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।