মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি কেন হলো, কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা!
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ট্রাম্পের হাতে এখন শুধু ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো’
ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর কার্যত কোণঠাসা ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী ফলাফলে রিপাবলিকানদের বড় বড় প্রার্থীদের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের হাতে এখন একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে রয়ে গেল ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো’। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ট্রাম্প সেই ভেটোর ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের এই ভরাডুবি এক বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’। দুই বছর আগে যেসব এলাকায় ট্রাম্প বিপুল সমর্থন পেয়েছিলেন, সেখানেই এবার রিপাবলিকানরা মুখ থুবড়ে পড়েছে। টেক্সাস, ওহিয়ো, লোয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা এবং ক্যানসাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের হার তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছে, গ্রামীণ আমেরিকায় ট্রাম্পের দলের ভোট গড়ে ১২ শতাংশ কমেছে। যদিও শহর এলাকায় সামান্য ভোট বেড়েছে, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় বড় ধরনের ধস নামায় সামগ্রিক সুবিধা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরের তুলনায় গ্রামীণ ভোটারের সংখ্যাধিক্যই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের মূল কারণ।
দলের এই বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প অবশ্য নিজের দায় স্বীকার করেননি। উল্টো তিনি দাবি করেছেন, তিনি নিজে সরাসরি ভোটের ময়দানে থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। দলীয় নেতাদের প্রতি তাঁর এই অনাস্থা বরাবরের মতোই ট্রাম্পের চেনা রাজনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন। তবে মুখে বড় বড় কথা বললেও, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ধাক্কায় যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট।
এই ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিশেষ করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ট্যারিফ নীতি বা ইরানের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া। তবে সংসদীয় রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখাই এখন একমাত্র পথ।