আসানসোলে শিল্প বিপ্লবের হাতছানি, ৮০ হাজার কোটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি!
শিল্পায়নে জোর ও নাগরিক পরিষেবায় কড়াকড়ি, আসানসোলে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
আসানসোল: রাজ্যে শিল্পায়ন ও আধুনিকীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নাকরাসোতা-বড়দিঘারী জনকল্যাণ সমিতির কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে তিনি এই বার্তা দেন।
শিল্প বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি নবান্নে বেদান্ত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। কাটমানি ও তোলাবাজিমুক্ত পরিবেশের আশ্বাস পেয়ে ওই শিল্পগোষ্ঠী জে কে নগরের জমিতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে এলাকায় প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের গৌরব পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল একসময় রাজ্যের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে কয়লা ও বালি মাফিয়াদের দাপটে সেই গৌরব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এখন শিল্পাঞ্চলের আধুনিকীকরণ ও জাতীয় স্তরের শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”
নাগরিক পরিষেবা নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসানসোল পুরসভার কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “পুর কমিশনার এখন সরকারের চোখ। পানীয় জল সরবরাহ ও রাস্তা মেরামতের মতো পরিষেবাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। পুর নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা প্রদানে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।”
পাশাপাশি, ছটপুজোর পরেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে। উন্নয়ন কাজে ঢিলেমি হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে বেনারস থেকে আসা বিশেষ গঙ্গা আরতি দলের পরিবেশনায় দামোদর নদের তীরে আরতির আয়োজন করা হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে কালীপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, অজয় পোদ্দার এবং স্থানীয় বিধায়কদের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।