খাবার পর মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে, আপনার শরীরে লুকিয়ে আছে বড় বিপদ!
মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণ ও প্রতিকারের উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেকেরই খাওয়ার পরপরই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে। পুষ্টিবিদদের মতে, এই প্রবণতা কেবল সাধারণ কোনো ‘লোভ’ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের অভাব থাকলে ইনসুলিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়। একে ‘রিঅ্যাক্টিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়। এতে শরীর দ্রুত শক্তির অভাব বোধ করে এবং মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে মিষ্টির খোঁজ করতে শুরু করে।
মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার পেছনে প্রধানত চারটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা: খাবার থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার না পেলে রক্তে শর্করা দ্রুত ওঠানামা করে। ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির প্রয়োজনে মিষ্টির সংকেত পাঠায়।
২. প্রোটিনের অভাব: প্রোটিন হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে রক্তে শর্করার মাত্রাকে স্থিতিশীল রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। প্রোটিনের অভাবে কাঙ্ক্ষিত তৃপ্তি না পাওয়ায় শরীর পুনরায় মিষ্টির দিকে ধাবিত হয়।
৩. অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া: দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সরল শর্করা বা সিম্পল কার্বোহাইড্রেট খেলে অন্ত্রে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, যা শর্করা বা মিষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এটি মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
৪. মনস্তাত্ত্বিক কারণ: অনেক সময় শারীরিক চাহিদার চেয়েও এটি মানসিক কারণে হয়ে থাকে। মিষ্টি খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িক মানসিক প্রশান্তি দেয়।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিজ্ঞানীরা। সুষম খাবার গ্রহণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে মিষ্টি খাওয়ার এই শারীরিক ও মানসিক তাগিদ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।