কাকার শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ায় বরখাস্ত রাহুল! ক্ষোভে ফুঁসছে কংগ্রেসের অন্দরে
রামলীলা ময়দানের সভায় অনুপস্থিতি: ১৮৫ কর্মীকে বরখাস্ত করল কংগ্রেস, ক্ষোভ দলে
নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকায় কংগ্রেসের ১৮৫ জন নেতা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, সাতটি রাজ্যের ১৮৫ জন নেতা ও কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই সংখ্যা ভবিষ্যতে ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অনুপস্থিতিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবেই দেখছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জেরে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রোহিত রাজোরিয়া। রোহিতের অভিযোগ, পারিবারিক কারণে দিল্লির ওই সভায় উপস্থিত থাকতে না পারার বিষয়টি তিনি আগেই নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, তাঁর কাকার শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই তাঁকে তড়িঘড়ি বহিষ্কার করা হয়।
রোহিত দাবি করেন, গত ১৫ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দলের হয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাধিক মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে, এমনকি জেলও খাটতে হয়েছে। এত দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগের পরও একটি সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলের একাংশের মতে, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ হলেও, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিপর্যয়কে উপেক্ষা করে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অমানবিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে শৃঙ্খলা বনাম মানবিকতার বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একদিকে যখন রামলীলা ময়দানের সভাকে বিরোধী ঐক্যের শক্তিপ্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরছে কংগ্রেস, অন্যদিকে কর্মীদের প্রতি গৃহীত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে দলের ভেতর থেকেই অস্বস্তির সুর শোনা যাচ্ছে।