বাংলার মসনদে কে, ভাগ্যবিধাতা হিসেবে দায়িত্ব পেলেন অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্ত তৈরি করে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০৭টি আসনে জয়লাভের পর এখন সবার নজর একটিই প্রশ্নের দিকে—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই হাই-ভোল্টেজ সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাঁধে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁকে বাংলার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি।

নেতৃত্ব চয়নে দিল্লির তৎপরতা

বিজেপির সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, বিধায়ক দলের নেতাই সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বাংলার ক্ষেত্রে এই নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন খোদ অমিত শাহ। দীর্ঘ নির্বাচনী লড়াইয়ে বাংলায় পদ্ম ফোটানোর নেপথ্যে শাহের রণকৌশল অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছে, তাই তাঁর ওপর এই গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী রাজ্য অসমের বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে, যেখানে তাঁর সহযোগী হিসেবে থাকছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি।

আগামী ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। তার আগেই নাম চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লি যাচ্ছেন সুনীল বনসল ও ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁরা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও অমিত শাহকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন। সূত্রের খবর, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বুধবারই অমিত শাহ কলকাতায় এসে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব

প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা বিজেপির জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা একটি স্পর্শকাতর ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার অর্থ হলো—দিল্লি থেকেই বাংলার শাসনের রূপরেখা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হতে যাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন, তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী পাঁচ বছর বাংলার প্রশাসনিক গতিপ্রকৃতি এবং কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্কের রসায়ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *