মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচারের জয়! জয়ী হয়েই অভয়া মঞ্চের কড়া প্রশ্নের মুখে রত্না দেবনাথ, শুরু নয়া বিতর্ক
আর জি কর কাণ্ডের ছায়ায় থাকা পানিহাটি বিধানসভা উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসলেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং বামপ্রার্থী কলতান দাশগুপ্তকে হারিয়ে জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে এই জয়ের পর রত্না দেবনাথকে শুভেচ্ছা জানালেও অভয়া মঞ্চের তীক্ষ্ণ বয়ান নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণকে উসকে দিয়েছে। মঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “শুভেচ্ছা রইল, তবে এবার নিজের দলের (বিজেপি) কাছ থেকে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দেখান।”
আন্দোলনের বিভাজন ও ভোটের সমীকরণ
আর জি কর কাণ্ডের পর থেকেই পানিহাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল তপ্ত। একদিকে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা বিজেপির পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন, অন্যদিকে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অভয়া মঞ্চ শুরু থেকেই তাঁদের থেকে একটি ‘নিরাপদ দূরত্ব’ বজায় রেখে আসছিল। নির্বাচনের প্রচারে মঞ্চ সরাসরি কলতান দাশগুপ্তকে সমর্থনের কথা না বললেও, তাঁদের অবস্থান ছিল বামপ্রার্থীর দিকেই। এমনকি অতীতে উন্নাও বা হাথরাসের উদাহরণ টেনে বিজেপিকে নিয়ে রত্না দেবনাথকে সতর্কও করেছিলেন মঞ্চের নেতারা। কিন্তু ভোটের ফলাফল বলছে, পানিহাটির মানুষ আবেগের লড়াইয়ে নির্যাতিতার মায়ের ওপরই আস্থা রেখেছেন।
বিচার প্রাপ্তি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
তৃণমূলের পরাজয়কে ‘ন্যায়বিচারের দাবির জয়’ হিসেবে দেখছে অভয়া মঞ্চ। তবে রত্না দেবনাথের জয়কে তারা শর্তসাপেক্ষ অভিনন্দন হিসেবেই বিবেচনা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রত্নার এই জয় শুধু একটি বিধানসভা আসন লাভ নয়, বরং কেন্দ্রীয় শাসকদলের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। কারণ, অভয়া মঞ্চের মতো অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো এখন সরাসরি আঙুল তুলছে বিজেপির দিকে। রত্না দেবনাথ এখন শুধু একজন শোকাতুর মা নন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধিও। ফলে আর জি কর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন তাঁর এবং তাঁর দলের জন্য সবথেকে বড় নৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।