ভোট মিটতেই বেলেঘাটায় রক্তপাত, বহিরাগত তত্ত্বে সরব বিধায়ক কুণাল

ভোটের ফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বেলেঘাটা। সোমবার রাতে বেলেঘাটার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কর্মী তথা বুথ এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়েককে খুনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হিংসা ও বহিরাগত আমদানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

খুন ও এলাকা দখলের অভিযোগ

পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় গণনার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর বিশ্বজিৎকে ফোন করে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর বাড়ির দরজার সামনেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার এনআরএস হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবারে তিন বছরের সন্তান রয়েছে এবং তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। বিধায়কের দাবি, নির্বাচনের আগে দিল্লির বিজেপি নেতাদের দেওয়া উস্কানিই এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মূল কারণ। শুধু এই হত্যাকাণ্ডই নয়, বেলেঘাটার একাধিক দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হিংসার নেপথ্যে বহিরাগত ষড়যন্ত্র

বিধায়ক কুণাল ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ, স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মীর সহযোগিতায় এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বহিরাগত ঢোকানো হয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি পরিকল্পিত ‘ক্যামোফ্লেজ’ বা ছদ্মবেশী আক্রমণ। স্থানীয় কয়েকজন ছাড়া হামলাকারীদের অধিকাংশকেই চেনা যাচ্ছে না, যা প্রমাণ করে যে বাইরে থেকে লোক এনে এই অশান্তি পাকানো হচ্ছে। এমনকি বিজেপির স্থানীয় অনেক কর্মীও এই ধরনের হিংসায় শামিল হতে অনিচ্ছুক বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই ঘটনার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট পরবর্তী এই হিংসা ও প্রাণহানি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *