ভরাডুবির পর ‘ইন্ডিয়া’ জোটেই কি অক্সিজেন খুঁজছেন মমতা? ভবানীপুরে হারের পরেই কালীঘাটে বড় ঘোষণা!

বাংলার মসনদ হারানোর পর এবার জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী লড়াইকে আরও সংহত করার বার্তা দিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে পরাজয় ঘটলেও পিছু হঠতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। বরং আগামী দিনে সনিয়া গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের সঙ্গে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরও শক্তিশালী করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

ভোট পরবর্তী কৌশল ও অভিযোগের পাহাড়

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর এই প্রথম জনসমক্ষে এসে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও নির্বাচন কমিশন একপাক্ষিক কাজ করেছে। এমনকি ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে হারের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বৃহত্তর লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জোটের ভবিষ্যৎ ও নতুন সমীকরণ

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অখিলেশ যাদবের কলকাতা সফর এবং রাহুল গান্ধী ও উদ্ধব ঠাকরেদের সঙ্গে ফোনে কথোপকথন প্রমাণ করে যে, রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হলেও জাতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী। তবে বাংলায় বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক আগামী দিনে কী রূপ নেবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে রাজ্যে যেখানে সিপিএম ও কংগ্রেস সরাসরি তৃণমূলের বিরোধিতা করে এসেছে, সেখানে নতুন সরকার গঠনের পর বিরোধীরা এক ছাতার তলায় আসে কি না, সেটিই এখন দেখার।

সম্ভাব্য প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটকে নতুন অক্সিজেন দিতে পারে। রাজ্যে বিরোধী আসনে বসে সম্মিলিত লড়াইয়ের ডাক দিয়ে তিনি একদিকে যেমন দলীয় সংহতি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আগামী দিনে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *