বিজয়োল্লাসে দাদাগিরি চললে বহিষ্কার, কড়া হুঁশিয়ারি বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলায় প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও রাজনৈতিক হামলার খবর আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজয়োল্লাসের নামে কোনো ধরনের হিংসা বা ‘দাদাগিরি’ বরদাস্ত করা হবে না।
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের পর সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন কর্মীরা। কিন্তু এরই মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর এবং দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমে শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দেন যে, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি তৃণমূলের কোনো দপ্তরে আক্রমণ করে কিংবা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি কদর্য ভাষা ব্যবহার করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ
ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। তিনি সাফ জানান, কেউ যদি বিজেপির পরিচয় দিয়ে অটোস্ট্যান্ড, টোটোস্ট্যান্ড বা কলকারখানায় তোলাবাজি করতে যায়, তবে পুলিশ যেন সরাসরি তাদের গ্রেপ্তার করে। তাঁর মতে, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অরাজকতা মেনে নেওয়া হবে না।
শান্তি বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরের ভোট-পরবর্তী হিংসার তিক্ত অভিজ্ঞতা বাংলার সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। সেই আতঙ্ক দূর করে রাজ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন শাসক দলের প্রধান লক্ষ্য। মঙ্গলবার সকালে শ্যামপুকুর বা বেলেঘাটার মতো এলাকায় যে হামলার ভিডিও সামনে এসেছে, সে প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন যে, এসব ঘটনার সঙ্গে বিজেপির প্রকৃত কর্মীরা যুক্ত নন। বরং বিরোধীদের অপদস্থ করতে বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে একদল দুষ্কৃতী এসব করছে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই কঠোর অবস্থান মূলত রাজ্যে ‘বদলা নয়, বদলানো’র বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাই এখন গেরুয়া শিবিরের মূল অগ্রাধিকার।