মমতার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, ভবানীপুরের গণনা নিয়ে কড়া রিপোর্ট কমিশনের

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনায় কারচুপি ও হেনস্থার বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এক রিপোর্টে জানিয়েছেন, গণনার সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং অনিয়মের দাবিগুলো সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অসত্য’।

কমিশনের পাল্টা যুক্তি ও স্বচ্ছতার দাবি

জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তাঁর রিপোর্টে স্পষ্ট করেছেন যে, ভোটগণনার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতিটি নিয়ম ও আইনি নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল, কিন্তু কমিশন জানিয়েছে সিসিটিভি এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। এছাড়া, প্রার্থীকে ধাক্কাধাক্কি বা হেনস্থা করার অভিযোগকেও ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন।

ভোটযন্ত্র ও গণনার আইনি ব্যাখ্যা

ইভিএম-এর চার্জ এবং গণনায় কারচুপি নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর তোলা প্রশ্নের বিপরীতে কমিশন জানিয়েছে, জনমতের সঠিক প্রতিফলনের জন্য সমস্ত আইনি রক্ষাকবচ মজুত ছিল। তৃণমূল প্রার্থীর আপত্তির কারণেই গণনার কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিয়ম মেনেই পুনরায় শুরু করা হয়। ইভিএম-এর কারিগরি দিক নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকেও প্রশাসনিকভাবে নাকচ করা হয়েছে।

এই সংঘাতের ফলে রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে ‘খলনায়ক’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে কমিশন নথিপত্র ও রিপোর্টের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই রিপোর্ট পেশের ফলে ভবানীপুরের ফলাফল ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *