জমি জট কাটিয়ে নতুন শিল্পনীতি, জমিদাতাদের জন্য থাকছে বড় সুযোগ!
বার্তা ডেস্কঃ
৫০ হাজার কোটির বকেয়া ও নতুন শিল্পনীতি: পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং শিল্পায়ন নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের এক সভামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে আজ রাজ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার ইনসেনটিভ ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন সরকার যদি প্রতি বছর নিয়মিত ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করত, তবে এই বিপুল আর্থিক বোঝা তৈরি হতো না। ‘নীতিগত উত্তরাধিকার’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও পূর্বসূরিদের দায়বদ্ধতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে বর্তমানে রাজ্যের কোষাগারে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটানোর মতো সক্ষমতা নেই। ভবিষ্যতে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে গুজরাত, মহারাষ্ট্র বা তামিলনাড়ুর আদলে এই বকেয়া মেটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর মতো ঘটনা আর ঘটবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘শিল্পপতিরা সরাসরি জমি কিনবেন’—আগের সরকারের এই নীতি থেকে সরে এসে এবার রাজ্য সরকার ‘ল্যান্ড পুলিং’ ও ‘ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর পথ অনুসরণ করবে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ও অন্ধ্রপ্রদেশের মডেল অনুকরণ করে তিনি নতুন কয়েকটি রূপরেখা ঘোষণা করেন:
- জমিদাতাদের উন্নত জমির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।
- সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রকল্পে জমিদাতাদের অংশীদারি নিশ্চিত করা হবে।
- কারখানায় অদক্ষ স্থানীয়দের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
- যেসব শিল্পসংস্থা দীর্ঘদিন জমি ফেলে রেখেছে, তাদের জন্য ৩ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলের ‘বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ (BGBS)-এর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আটটি সংস্করণে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি; এমনকি সরকারি স্কুল ও হাসপাতালকেও বিনিয়োগ হিসেবে দেখানোর জালিয়াতি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, কর্মসংস্থান বাড়াতে পানাগড়, হরিণঘাটা, শালবনী ও রঘুনাথপুরে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা দূর করতে এবং রাজ্যে অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোর উন্নতির লক্ষ্যে সরকার নতুন ‘কর্মযোগী’ প্রকল্প চালু করছে। সবশেষে শিল্পমহলকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বদ্ধপরিকর।