আইনি জাঁতাকলে ভিটেমাটি ছাড়া মালপাড়ার কারিগররা, পেট চালাতে এখন ভিনরাজ্যের বাজিই শেষ ভরসা!

বার্তা ডেস্কঃ

 

আইনি জটিলতায় ঐতিহ্যের পথে ইতি, জৌলুস হারিয়েছে মালপাড়ার বাজি বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময়কার বিখ্যাত বাজি তৈরির কেন্দ্রস্থল মালপাড়ায় এখন আর বাজি তৈরি হয় না। কঠোর আইনি বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এলাকাটির সেই পুরোনো ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। আসন্ন কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কেবল কেনাবেচাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এখানকার বাজি ব্যবসার ছবি।

বুধবার সকালে মালপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজি বিক্রির জন্য ছোট ছোট দোকান তৈরির প্রস্তুতি চলছে। তবে ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এখানকার উৎপাদিত হাউই, রংমশাল ও তুবড়ি এই জেলা ছাড়িয়ে দূর-দূরান্তের মানুষের কাছে সমাদৃত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ছবিটাই সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে বাজি উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন মূলত নদীপারের নুঙ্গি বা বজবজ থেকে পাইকারি দরে বাজি কিনে এনে বিক্রি করছেন।

দীর্ঘদিন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এক বিক্রেতা জানান, আইনি জটিলতার কারণে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগের মতো আর বাজির বাজার নেই। বছরের অন্য সময়ে আমরা নানা রকম কাজ করি। শুধুমাত্র কালীপুজোর এই চারটে দিনে কিছুটা উপার্জনের আশায় বাজি কিনে বিক্রি করি। কিন্তু বিক্রি আগের তুলনায় এতটাই কমেছে যে, লাভের মুখ দেখা কঠিন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে মালপাড়ার শতাধিক পরিবার বাজি তৈরির পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে আইনি বিধিনিষেধের বেড়াজালে পড়ে সেই সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। বাধ্য হয়েই হাতে গোনা কিছু ব্যবসায়ী বিকল্প কাজের সুযোগ না পেয়ে এখনও কোনোমতে এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীই জানিয়েছেন, আগামী দিনে এই পেশায় টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

একদা বাজি উৎপাদনের যে সুনাম ছিল মালপাড়ার, তা আজ কার্যত স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং উপার্জনের অনিশ্চয়তায় এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি এখন অস্তমিত হওয়ার পথে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *