৩ শতাংশ বাড়ল ডিএ, অষ্টম বেতন কমিশন কি এবার সত্যিই আসছে?
বার্তা ডেস্কঃ
অষ্টম বেতন কমিশন ও ডিএ বৃদ্ধি: নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট ধারণা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন এবং মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তবে সরকারি তথ্য ও নিয়ম অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে কিছু স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ডিএ বৃদ্ধি ও বর্তমান অবস্থান:
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ডিএ ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৩ শতাংশ করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই বর্ধিত হার কার্যকর হয়েছে। ৪৮.৫৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৮.৭১ লক্ষ পেনশনভোগী এই সুবিধা পাবেন। তবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে রাখা ভালো, এই ডিএ বৃদ্ধি সপ্তম বেতন কমিশনের কাঠামোর অন্তর্গত এবং এর সঙ্গে অষ্টম বেতন কমিশনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।
অষ্টম বেতন কমিশন ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা:
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কর্মীদের প্রধান আগ্রহের জায়গা হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ এবং ন্যূনতম মূল বেতন। সপ্তম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। নতুন কমিশনের ক্ষেত্রে ১.৯২, ২.৫৭ কিংবা ৩—এর মধ্যে কোনো একটি ফ্যাক্টর হতে পারে বলে জল্পনা থাকলেও, কেন্দ্র সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে তারা চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ জানুয়ারি ২০২৬ সাল থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, এটি একটি সম্ভাব্য সময়সীমা মাত্র। যতক্ষণ না সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করছে, ততক্ষণ কোনো নির্দিষ্ট হিসাব কার্যকর হচ্ছে না।
বকেয়া ও পেনশন সংক্রান্ত আপডেট:
যদি সরকার ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখটিকে কার্যকর করার দিন হিসেবে ঘোষণা করে, তবে কর্মীরা বকেয়া বা এরিয়ার পাবেন। তবে বকেয়া প্রদানের পদ্ধতি বা কিস্তির সংখ্যা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করবে। একইভাবে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
সারসংক্ষেপ:
বর্তমানে ডিএ বৃদ্ধির সুবিধা কর্মীরা পেলেও, অষ্টম বেতন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুফলের জন্য কর্মীদের ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর এবং সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই নতুন মূল বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও এরিয়ার সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাই কোনো অনুমাননির্ভর তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকার দিকেই নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।